এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

চন্দ্রকোণার এই হোটেলে চেয়ার টেবিল নেই, আসনে বসে আপনাকে খেতে হবে

Published on: December 7, 2025 । 7:00 PM

সৌমেন মিশ্র, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: খেয়ে অনলাইনে টাকা পেমেন্টের আধুনিক সুবিধা থাকলেও এই হোটেলে মেঝেতে বসেই আপনাকে খেতে হবে। এটাই এই হোটেলের ঐতিহ্য। আজও এই হোটেলে টানা ভিড়। ঘরোয়া রান্না হলেই তো হয় না, আজও আমরা বাড়ির মেঝেতে আসনে বসে ভাত খেতে যে সুখ পাই, তার কাছে ওই হাজার হাজার টাকার চেয়ার টেবিলে বসে নামি-দামি খাবারের স্বাদ ফেলনা। প্রায় দেড়শো বছর ধরে ঘাটাল মহকুমা এলাকায় এমনই এক হোটেল চলছে, যে হোটেলে চেয়ার টেবিল নেই। হোটেলের মেঝেতে গ্রাহকদের জন্য পাতা থাকে আসন, আসনের পাশে জলের জগ, নুন, কাঁচা লঙ্কা, লেবু, পেঁয়াজ। মাছের ঝোল, সুক্তো, চচ্চড়ি— এইসব ঘরোয়া রান্না এই হোটেলের মেনুতে পাবেন। সারা বাংলা ঘুরলেও সম্ভবত এমন হোটেল পাবেন না। ঘাটাল মহকুমার অন্যতম প্রাচীন শহর চন্দ্রকোনা। এই শহরেই জিরাট হাইস্কুলের পশ্চিমদিকের রাস্তা ধরে কিছুটা এলেই প্রাচীন চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা ইঁটের দেওয়াল পেরিয়ে পাবেন গোয়ালাদের হোটেল। চারিদিকের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। সেই মুগ্ধতার সাথে হোটেলের মধ্যে পেটে খিদে নিয়ে এলে আপনার জন্য পাতা থাকবে আসন, আসনের পাশে জল, লেবু, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা। পাতে পড়বে ভাত, ডাল, সাথে আপনার বাড়ির মতন ঘরোয়া সব রান্না। দুপুরে বা রাতে এই খাবার খেয়ে তৃপ্তি পাবেন। দেড়শো বছর আগে নিরঞ্জন ঘোষ এই হোটেল চালু করেন। তিন পুরুষ ধরে এই হোটেল চলছে। বর্তমানে অনুপ ঘোষ এই হোটেলের দায়িত্বে। হোটেলে অনলাইন পেমেন্টের আধুনিকতা এলেও হোটেলে নেই চেয়ার টেবিল। প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে আজও হোটেলের মেঝেতে আসনে বসেই খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। আলু স্টোরে কর্মরত অজয় দাস জানালেন, প্রায় ৫ বছর ধরে তিনি এই হোটেলেই খাচ্ছেন। যেন বাড়ির রান্না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আসনে বসে ভাত খেতে খেতে বাছড়া গ্রামের নবকুমার দাস জানালেন, তিনি পাতে নিয়েছেন আলু-উচ্ছে ভাজা, সুক্তো, মাছের তেল-ঝাল, পোস্ত। খুবই তৃপ্তিভরে খাচ্ছেন তিনি। কী ভাবছেন, ঘুরতে ঘুরতে একদিন যাবেন নাকি প্রাচীনত্বের গন্ধ মেখে পুরাতন ঐতিহ্যে মেঝেতে পাতা আসনে বসে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা সেই সব রান্না খেতে?

সৌমেন মিশ্র

পাঠকের কাছে তথ্য ভিত্তিক সত্য সংবাদ পৌঁছে দেওয়াই আমার দায়িত্ব। মোবাইল-৯৯৩২৯৫৩৩৬৭