কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: ১৪৫ বছরের পুরনো চন্দ্রকোণার জাড়া হাইস্কুল আজ কার্যত ধ্বংসের মুখে! স্কুলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তো রয়েছে। সেই সঙ্গে স্কুলের স্কুলে পড়াশোনার পরিবেশও তলানিতে ঠেকেছে। ভগ্নপ্রায় স্কুল ভবন সংস্কার হয়নি, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড়সড় বিপদ ঘটাতে পারে। পিডব্লিউডি-র ইঞ্জিনিয়ার বিপজ্জনক ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেও, সেখানেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পঠনপাঠন। শিক্ষকরা অনেকেই নিয়মিত আসেন না, আর এলেও শুধু হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান। উৎস্যশ্রী প্রকল্পে বদলি নেওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ে এনওসি জোগাড় করার অভিযোগও রয়েছে। এরই প্রতিবাদে এবং স্কুল বাঁচানোর তাগিদে শনিবার স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রায় দু’শতাধিক অভিভাবক ও গ্রামবাসী।
গ্রামবাসী চিরঞ্জীব মঙ্গল ও প্রাক্তন ছাত্র সুমন রায়দের অভিযোগ, ২০১২ সালের পর থেকেই স্কুলে নানা বেনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়েছে। ভুয়ো ভাউচার দেখিয়ে সরকারি টাকা তছরুপ থেকে শুরু করে মিড-ডে মিলে দুর্নীতি—বাদ নেই কিছুই। এমনকি, অন্যায়ভাবে এক শিক্ষিকাকে মাতৃত্বকালীন ছুটি না দিয়ে তাঁর বেতন কেটে নেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে। অথচ পরিচালন কমিটির বর্তমান সভাপতি নাকি স্কুলেই আসেন না! এই চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে নিজেদের ত্রুটি একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হীরণ্ময় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, অভিভাবকদের এই ক্ষোভ ও অভিযোগ যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত এবং দ্রুত এই সমস্যাগুলি রেক্টিফাই করার চেষ্টা করা হবে। এখন দেখার, এই প্রতিশ্রুতির পর জাড়া হাইস্কুল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পায় কি না!
ঐতিহ্যবাহী স্কুলে পঠনপাঠন লাটে, অনিয়মের অভিযোগ, জাড়া স্কুলে বিক্ষোভের মুখে অপদস্থ স্কুল কর্তৃপক্ষ



