কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: স্বপ্ন যদি সত্যি মনে লালন করা যায়, তাহলে একদিন না একদিন তার দরজা খুলবেই। সেই স্বপ্নপূরণেরই এক সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ঘাটাল মহকুমার যোগা প্রশিক্ষিকা ঝুমা মণ্ডল। এই যোগা প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর হরিদ্বার পতঞ্জলি যোগা শিবির থেকে আমন্ত্রণপত্র পান তিনি। সেই আমন্ত্রণে ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত হরিদ্বারে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনের বিশেষ যোগা প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেন ঝুমা। প্রশিক্ষণ চলাকালীন পতঞ্জলি শিবিরে থাকা, খাওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যবস্থাই ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
হরিদ্বার থেকে ঝুমা বলেন, সেখানে গিয়ে নিজেকে সত্যিই খুব ধন্য মনে হচ্ছে। রামদেব বাবার কাছে গিয়ে বুঝতে পারলাম, যোগা শুধু শরীর ভালো রাখার উপায় নয়, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকারও একটা পথ। প্রতিদিন নিয়ম করে যোগা করলে শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনই মনও ভালো থাকে।
তিনি আরও জানান, ঘাটাল শহরের অনেকেই আমার কাছে নিয়মিত যোগা অভ্যাস করেন। এখানে এসে অনেক নতুন বিষয় শিখেছি। বাড়ি ফিরে সেই শেখাগুলো সবাইকে শেখাতে চাই। যদি আমার শেখানো থেকে একজন মানুষও সুস্থ থাকতে পারেন, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
রামদেব বাবার আশীর্বাদ নেওয়ার মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ঝুমার গলায় ছিল আবেগ। তিনি বলেন, বাবার পা স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি। এই কয়েকটা দিন আমার কাছে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, অনেক বড় একটা শিক্ষা হয়ে থাকবে।
ঘাটালের একজন যোগা প্রশিক্ষিকা হিসাবে ঝুমা হরিদ্বারের পতঞ্জলি যোগা শিবিরে যে অংশ নিয়েছেন— এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর যোগার প্রতি ভালোবাসা। তাঁর এই পথচলা শুধু তাঁর নিজের নয়, ঘাটালবাসীর জন্যও গর্বের। ঝুমা মণ্ডলের এই সাফল্য অনেকের কাছে প্রেরণা হয়ে থাকবে।





