তৃপ্তি পাল কর্মকার, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: শনিবার সন্ধ্যায় দাসপুর থানার রামনগরে রাস্তায় কয়েক জন যুবক গল্প করছিলেন। সেই সময়ই হঠাৎ করে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে গেল এই যন্ত্রটি। যন্ত্রের আর একটি অংশ বিকট শব্দ করে ছিটকে ফেটেও যায়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় দুই যুবক গোবিন্দ ভুঁইয়া এবং লোকনাথ চক্রবর্তী সাহসের সঙ্গে এই যন্ত্রটি মাটি থেকে তুলে পুলিশকে খবর দেন। তবে ছিটকে ফেটে যাওয়া অংশটি ভয়ে আর তুলে আনেননি তারা। একটি অংশই সংগ্রহ করেছেন। যন্ত্রটির মধ্যে এখনও নীল আলো দপদপ করছে।
এদিকে ঘাটাল ব্লকের আলুই হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা শম্পা পাল বলেন, এটিকে ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। এটি আসলে রেডিওসোন্ড। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য অনেক সময় হিলিয়াম বা হাইড্রোজেন ভরা বেলুনের সঙ্গে একটি ছোট যন্ত্র ঝুলিয়ে আকাশে পাঠানো হয়। এটি উপরে উঠে তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতিবেগ দিক-এর মতো তথ্য সংগ্রহ করে। বেলুনটি ওপরে উঠে বড় হতে হতে একসময় ফেটে যেতে পারে। তখন যন্ত্রটি প্যারাশুটের সাহায্যে ধীরে ধীরে মাটির দিকে নেমে আসে। তাই স্থানীয়দের কাছে সেটি হঠাৎ “আকাশ থেকে পড়েছে” বলে মনে হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সংবাদের দপ্তর থেকে দমদমের ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখানের এক আধিকারিক জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, আর্দ্রতা এবং চাপ মাপার জন্য ওখান থেকে দিনে সাধারণত দু’বার রেডিওসন্ডযুক্ত আবহাওয়া বেলুন ওড়ানো হয়। আজ শনিবারও তাই করা হয়েছে। এটিকে দেখে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি বিপজ্জনক কোন ডিভাইস নয়।
সন্ধ্যের পরই আকাশ থেকে মাটিতে ভেঙে পড়ল অজানা যন্ত্রাংশ, এলাকায় আতঙ্ক







