এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

জাতীয় পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে দু’চার কথা

Published on: August 14, 2019 । 8:28 AM

শান্তনু দত্ত(শিক্ষক): স্বাধীনতা দিবস(১৫ আগস্ট) এবং প্রজাতন্ত্র দিবস(২৬ জানুয়ারি) এই দুটি দিন ভারতবাসীদের কাছে ভীষণ আনন্দের ও আবেগের।  মূলত এই দুটি দিনে ভারতের সর্বস্তরের মানুষ নানা ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পতাকা ব্যবহার  করেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই তা নিয়ম মেনে হয় না। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে  ‘দ্য ফ্লাগ কোড অফ ইন্ডিয়া-২০০২’ এবং  ‘দ্য প্রিভেনশন অফ ইন্সাল্ট টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১’  অনুযায়ী  জাতীয় পতাকা ব্যবহার ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম তুলে ধরা হল।

🔵জাতীয় পতাকা🔵

➥জাতীয় পতাকা হবে  সুতো, সিল্ক,উল, খাদি কাপড়ের। জাতীয় দিবস, সাংকৃতিক অনুষ্ঠান বা খেলাধুলোর ক্ষেত্রে কাগজের পতাকা ব্যবহার করা যাবে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ,সেগুলো ব্যবহারের পর যেন এখানে ওখানে পড়ে না থাকে। কখনোই পতাকা প্লাস্টিকের তৈরি হবে না। কারণ প্লাস্টিক মাটিতে মিশে না। ➥পতাকার আকার হবে আয়তাকার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত  হবে  ৩:২। ➥পতাকার সাইজের ক্ষেত্রে ৯টি মাপ নির্দিষ্ট করা আছে। সবচেয়ে বড় ৬৩০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৪২০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং  এবং সবচেয়ে ছোট পতাকার সাইজ হবে ১৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ১০ সেন্টিমিটার চওড়া।

জাতীয় পতাকার ব্যবহারের নিয়ম—

✔যে কোনও দিনই পতাকার মর্যাদা, গৌরব ও সম্মান অক্ষুন্ন রেখে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর সহ যে কোনও জায়গায় পতাকা তোলা যাবে। ✖উল্টো দিকে লাগানো যাবে না। (ওপরে গেরুয়া এবং নিচের দিকে সবুজ যেন থাকে সেই ভাবে লাগাতে হবে)। ✖জাতীয় পতাকা কখনই মাটি বা জল স্পর্শ করবে না। ✖জাতীয় পতাকা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ২০০৫ সালের ৫ জুলাই থেকে জাতীয় পতাকাকে কোমরের ঊর্ধ্বে পরিধেয় বস্ত্রে বা বস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি মিলেছে। ✔সূর্যোদয়ের পর এই পতাকা তুলতে হয় এবং সূর্যাস্তের আগে তা নামিয়ে নিতে হয়। ✖সরকারি নির্দেশ ছাড়া কখনোই পতাকাকে অর্ধেক নামানো যাবে না। ✖রাষ্ট্রপতি,উপরাষ্ট্রপতি,রাজ্যপাল,প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের প্রধান ও অন্যান্য বিচারপতি, এছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট সরকারি ব্যক্তিত্ব ছাড়া অন্য কেউ তাঁর গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন না।  ✖ছেঁড়া বা নোংরা অবস্থায় পতাকার প্রদর্শনী অপমানজনক। জাতীয় পতাকার ওপর কোনও কিছু লেখা চলবে না। ✔পরস্পর পাশাপাশি দুটি পতাকাদণ্ডের উপরে দুটি জাতীয় পতাকা একত্রে প্রদর্শিত হলে দণ্ডদুটির অভিমুখ পরস্পরের দিকে রাখতে হয় এবং পতাকাদুটি পূর্ণ প্রসারিত অবস্থায় প্রদর্শিত করতে হয়।  ✔বাইরের অন্যান্য দেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে একসাথে প্রদর্শিত হওয়ার সময় যেদিকে একাধিক দেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয় সেদিকে অন্যান্য পতাকার ডানদিকে (দর্শকের বাঁদিকে) রাখা হয় জাতীয় পতাকাকে। সমস্ত পতাকা যেন সমান আকারের হয় ও কোনো পতাকাই যেন ভারতীয় পতাকা থেকে বড় না হয়, তার প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়। ✔কর্পোরেট পতাকা বা বিজ্ঞাপন ব্যানার জাতীয় অন্যান্য পতাকার সঙ্গে একসাথে প্রদর্শিত করতে হলে পতাকাসমূহের মধ্যস্থলে অন্য পতাকার তুলনায় অন্তত এক পতাকা-প্রস্থ উচ্চতায় প্রদর্শিত হয়। যদি একটি পতাকাদণ্ডে সবগুলি পতাকা প্রদর্শিত করতে হয়, তবে জাতীয় পতাকা সবচেয়ে উপরে থাকে। ✔অন্য পতাকার সঙ্গে কোনও শোভাযাত্রা বা কুচকাওয়াজ করতে হলে জাতীয় পতাকাকে অন্য পতাকার মাঝে বা ডানদিকে আলাদাভাবে রাখা হয়।  ✖জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা অপরিষ্কার হলে, একে ফেলে দেওয়া বা অমর্যাদায় নষ্ট করা যায় না। একে লোকচক্ষুর আড়ালে পুড়িয়ে বা পতাকার মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো উপায়ে নষ্ট করা হয়। এর বাইরেও গঙ্গাতে বিসর্জন দেওয়া হয় বা সসম্মানে কবরস্থ করেও একে বিনষ্ট করা যায়।   ✔কোনও ভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে তাহলে সেই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার ও জরিমানা করতে পারে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল কিংবা শুধু জরিমানা বা দুই করতে পারে।

🔵 জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম 🔵

✔জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় সর্বদা সাবধানের ভঙ্গিতে দাঁড়াতে হবে।

✔গানের প্রতিটা শব্দের উচ্চারণ সঠিক ভাবে করতে হবে।

✔জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার নির্ধারিত সময়  ৫২সেকেন্ড।  তা ৪৯থেকে ৫২ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হয়।  সংক্ষিপ্ত রূপ গাওয়ার ক্ষেত্রে  ২০ সেকেন্ডে  প্রথম ও শেষ পঙক্তি:  জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!/   জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।  গাওয়া হয়ে থাকে।

✔জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও ভাবেই তাঁদের বাধা প্রদান করা যাবে না। দোষী সাব্যস্ত হলে, তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা পর্যন্ত করা হতে পারে।

জয় হিন্দ!

 

তৃপ্তি পাল কর্মকার

আমার প্রতিবেদনের সব কিছু আগ্রহ, উৎসাহ ঘাটাল মহকুমাকে ঘিরে... •ইমেল: [email protected] •মো: 9933066200 •ফেসবুক: https://www.facebook.com/triptighatal •মোবাইল অ্যাপ: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.myghatal.eportal&hl=en ইউটিউব: https://www.youtube.com/c/SthaniyaSambad

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

পড়তে ভুলবেন না

দেড় মাসের বিবাহিত জীবন,স্বামীর সাথে মা আরও ৪ টি প্রাণ শেষ!

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঘাটাল বি.এড.কলেজ ক্যাম্পাসে ভেষজ উদ্যানের সূচনা

ঘাটালের এই বৃদ্ধের দিনকাটে কলকাতার কালীঘাটে ভিক্ষা করে, ফিরতে চান ছেলেদের কাছে নিজের বাড়িতে!

দাসপুরে পুলক মাস্টারের হাত ধরে নাট্য বিপ্লব,সময়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষকের নাট্য চর্চা

ঘাটাল জুড়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! মর্মান্তিক মৃত্যু! প্রাণ বাঁচাতে যা করবেন। দেখে রাখুন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চেনা অচেনা মানুষগুলো প্রাণে বেঁচে যেতে পারেন

উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে জনসেবার উদ্দেশ্যে IAS পরীক্ষার প্রস্তুতি! ঘাটালে কর্মশালায় জেলাশাসকের বক্তব্যে আপ্লুত ছাত্রছাত্রীরা