কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: বর্ষা এলেই শিলাবতী নদীর খেয়াঘাট যেন নরকযন্ত্রণা। ঘাটাল পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়পানিচাদা গ্রামের চাংড়ির খেয়াঘাটে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন নাকাল হতে হচ্ছে কয়েকশো গ্রামবাসীকে। বছরের পর বছর ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা এই খেয়াঘাটটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ জমছে স্থানীয়দের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি মিললেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়পানিচাদা গ্রাম থেকে শিলাবতী নদী পেরিয়ে ওপারের প্রতাপপুরে যাওয়ার জন্য এই চাংড়ির খেয়াঘাটই একমাত্র ভরসা। কিন্তু নদীর পাড়ে কোনও স্থায়ী ঢালাই বা বাঁধানো পথ না থাকায় বর্ষার সময়ে হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। জুতো হাতে নিয়ে, কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটে তবেই নৌকায় উঠতে হয় নিত্যযাত্রীদের। এমনকি ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়াদের কোলে নিয়ে বিপজ্জনকভাবে নদী পারাপার করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। অনেকেই এই কাদায় পা পিছলে আছাড় খেয়ে আহত হচ্ছেন।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রতাপপুর, শ্রীরামপুর, পাঁচঘড়া সহ সংলগ্ন একাধিক এলাকার মানুষ প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। ওপারের প্রতাপপুর ঘাটটি বছর দশেক আগে ঢালাই হলেও, বাড়পানিচাদার দিকের ঘাটটি আজও কাঁচাই রয়ে গিয়েছে। ফলে বর্ষার সময় সাইকেল বা কোনও দু’চাকার গাড়ি নিয়ে নদী পারাপার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ প্রতিদিন জনপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে কিংবা অনেকে বছরে দেড় হাজার টাকা দিয়ে নৌকা পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা ঘাট সংস্কারের আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট মিটতেই সেই প্রতিশ্রুতি ধামাচাপা পড়ে যায়। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অজুহাত দেখিয়ে এত বছর ধরে সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্ভোগকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। অবিলম্বে শিলাবতী নদীর এই চাংড়ির খেয়াঘাট পাকা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মানুষজন। ঘাটালে বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘ দিনের। আমরা এই সবে সরকারে এসেছি। এবার অবশ্যই ওই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবব।
শিলাবতী নদীর চাংড়ির খেয়াঘাটে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা








