দেবাশিস কুইল্যা: নিজের জন্মদিনের উপহার নিজেই সাজিয়েছেন এই আত্মজ্ঞানী মানুষটি। #দাসপুর_ইতিহাস_ও_ঐতিহ্য নিয়ে দাসপুরের লোক সংস্কৃতির বিষয় নিয়ে একটা বই প্রকাশের সলতেটা পাকানো হচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। সযয়টা সম্ভবতঃ ২০২১ এর প্রথম প্রথম। কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছেন অনেকদিন ২০০৯ এর অক্টোবর। এতদিন হয়েগেল আপনার এবার একটি লোক সংস্কৃতি বিষয়ের উপর বই হলে ভাল হয়। একটা মাইলস্টোন হবে পঞ্চানন বাবুর পরে ঘাটাল কেন্দ্রীক। স্যারের বাড়িতে সেদিনের আলোচনায় সুকান্তদাই স্যারকে প্রস্তাব দিল যে, “আপনার দাসপুর কেন্দ্রীক লোকসংস্কৃতি বিষয় গুলো নিয়ে একটা ভাল বই হতে পারে।” সুকান্তদার সাথে হাত মেলালাম আমিও। আর ২০২২এই নিজের জন্মদিনের উপাহার সাজালেন নিজের প্রথম বই প্রকাশের মাধ্যমেই। ক’জন মানুষ পারে নিজেকে এমন করে ভালবাসতে?
পৃথিবীতে এসেছিলেন ইংরেজির ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৯খ্রীষ্টাব্দে । শনিবার।বঙ্গাব্দ অনুযায়ী সেদিনটি ছিল ১লা ভাদ্র, ১৩৫৬ সাল । সময়টা উল্লেখ করেননি। কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন এবার। সঙ্গে ছিল ঘাটাল মহকুমা ছাড়িয়ে কবিতার মুখ সুকান্তদা (সুকান্ত সিংহ )।
পড়াশোনা,নানা পত্রপত্রিকার জন্য প্রবন্ধ, রম্য রচনা আর ব্যাঙ্গাত্মক ও রসালো প্রবন্ধ। গভীর পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে চলছে নিজের দেশের মাটির নিবিড়ে লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যের সন্ধান। যা নিজের চোখে দেখছেন অনুসন্ধানীর দৃষ্টিতে তাই একে একে লিপিবদ্ধ করে চলেছেন অন্তরালে। মেদিনীপুর কেন্দ্রীক প্রথম সারির প্রত্রিকা ছাড়াও সাপ্তাহিক বর্তমান, দেশ -এর মতো লিটিল ম্যাগাজিনের জগতে প্রবন্ধ ও ব্যাঙ্গাত্মক রচনায় নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন।
#দাসপুর_ইতিহাস_ও_ঐতিহ্য রমরমিয়ে বাজার কাটল।আমরা যারা একটু আধটু কলম চালাই তাদের অভিভাবক হয়ে ছিলেন অনেক পূর্বেই এবার প্রকাশ্যে এলেন। এছাড়াও ভাষা বিষয়ক গবেষণালবদ্ধ ” দাসপুরের ভাষা প্রসঙ্গ মেদিনীপুর “, “মন্দির শিল্পে টেরাকোটা “, পরপর প্রকাশ পেল। যেন অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটাচ্ছেন। যেখানেই যা পেয়েছেন তার আরো আরো নিবিড়ে যাওয়ার জন্য নিজেই গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন। এই তো ক’দিন আগেই চলেগেছিলেন দুপুরের রোদ মাথায় নিয় চন্দ্রকোনা টাউন ছাড়িয়ে। এই আটাত্তর বয়েসে এমন সবুজ মনের জোর ক’জনের থাকে।
এই তো দু’দিন আগেই কথা হল ওভার ফোনে। শরীরের যত্ন নিতে বলায় বার বার বলতেন ক’দিন আছি করে যাই। এখনোতো অনেক কাজ বাকি ছিল আপনার। এত তাড়া ছিল ঠাকুরের কাছে যাওয়ার? আপনিও কি জানতেন না?
নিজের কাছে ও কাজে পরিষ্কার থাকবেন বলে কোলকাতা পুলিশের ভাল পদমর্যার চাকরিটা ছেড়েছিলেন অনায়াসে। আর বেছে নিলেন শিক্ষকতার পেশা। তাই নিজের বাড়িতে প্রশয় দিয়েছেন আমাদের স্বছন্দ যাতায়াতে ও যোগাযোগে ছিল । আমার কোনো ভুল সিদ্ধান্তে কষ্ট পেতেন। শুধু আমার কেন বলছি, আমাদের। প্রতিপদক্ষেপে আমাদের শিখিয়েছেন অনুসন্ধান ও মানুষ চেনার কৌশল। অথচ ঠাকুরের ডাকটা উপেক্ষা করতে পারবেননা বলেই বুঝতে দেননি কাউকে? ভাল থাকুন ঠাকুরের কাছে।
ভাল থাকুন আপনি ঠাকুরের কাছে।
উমাশঙ্কর নিয়োগী ১৯৪৯-২০২৬







