কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আভিজাত্যের অহংকার কীভাবে একটি পরিবারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিতে পারে, বুধবার রাতের চন্দ্রকোনা থানার রামজীবনপুর শহর যেন তারই সাক্ষী হয়ে রইল। আধুনিক সমাজে দাঁড়িয়েও আমরা কতটা সহনশীল হতে পেরেছি, সেই জ্বলন্ত প্রশ্নটি আরও একবার উসকে দিল এই রোমহর্ষক ঘটনা। ভিন পাড়ার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের বিবাহ মেনে নিতে না পেরে ছেলের বাড়িতে রীতিমতো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠল। তবে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় এবং সাহসিকতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার হলেও এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামজীবনপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনপুর এলাকার বাসিন্দা দিলীপ খাঁ এবং তাঁর স্ত্রী মিঠুরানি খাঁয়ের বাড়িতে এই নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি দিলীপবাবুর ছেলে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তুলনামূলকভাবে বিত্তবান পরিবারের মেয়ের এই প্রেমের বিবাহ কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই বুধবার রাতে চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী দিলীপবাবুর বাড়িতে চড়াও হয়। ছেলের নাম ধরে ডাকাডাকি করে দরজা খুলিয়েই স্বামী-স্ত্রীর ওপর অমানবিক মারধর শুরু করে তারা।
জানা গিয়েছে, ওই হামলাকারীদের হাতে অন্তত দু’টি লম্বাটে দেশি বন্দুক ছিল। আচমকা এই প্রাণঘাতী হামলায় প্রথমটা হকচকিয়ে গেলেও, নিজেদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন প্রৌঢ় দম্পতি। তাঁদের আর্তনাদ শুনে মুহূর্তের মধ্যে জেগে ওঠেন আশপাশের মানুষজন। প্রতিবেশীরা একজোট হয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পিঠটান দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। পালানোর তাড়াহুড়োয় একটি বন্দুক ফেলেই চম্পট দেয় তারা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং ফেলে যাওয়া ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ভিন পাড়ায় প্রেমের বিয়ের জেরে তৈরি হওয়া আক্রোশ থেকেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও পুলিশের তদন্ত জোরকদমে চলছে। তবে এই ঘটনা সমাজের বুকে এক গভীর ক্ষতের ইঙ্গিত দেয়। শুধুমাত্র আভিজাত্য বা মতাদর্শের অমিলের কারণে রাতের অন্ধকারে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা কোনও সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। ভালোবাসাকে মেনে নেওয়ার মতো মানসিক প্রসারতা এবং পেশিশক্তির বদলে আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখা যে কতটা জরুরি, রামজীবনপুরের এই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
প্রেমের পরিণামে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা, প্রতিবেশীদের প্রতিরোধে রুখল বড় বিপদ









