এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper
Published on: September 26, 2026 । 7:40 PM

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  ২০৭ তম জন্মদিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় ও আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হল চন্দ্রকোণায়। আজ ২৬ সেপ্টেম্বর চন্দ্রকোণা শহরের আমডাংরায় স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সঙ্ঘের সভাপতি তথা আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষের উদ্যোগে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদানের পাশাপাশি তাঁর চরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দোলুই, চন্দ্রকোণা থানার  ওসি প্রত্যয় দাস, সমাজসেবী সঞ্জিত মিদ্যা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে বিদ্যাসাগর মশায়ের সমাজ সংস্কারের বর্ণময় দিকগুলি তুলে ধরেন। বিদ্যাসাগর না থাকলে বাংলার বুকে বর্ণপরিচয় তৈরি হত না, বিধবা বিবাহ চালু বা বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হত না বলে এদিন সভায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি, নারীশিক্ষার প্রসার ও মাতৃভক্তির যে অনন্য দৃষ্টান্ত দয়ারসাগর তৈরি করে গিয়েছিলেন, তা আজও সমাজকে পথ দেখায়। যে মহামানবের জন্য আজও মানুষ বুড়ো আঙুলের ছাপের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের নাম লিখতে শিখেছেন, তাঁর চরণযুগলে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি  ও  প্রণাম জানান সঙ্ঘের সভাপতি সমীরবাবু। উল্লেখ্য, সঙ্ঘের সম্পাদক সৌরভ ঘোষ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের  ওই আবক্ষ মূর্তির প্রতিষ্ঠাতা। পূর্বে এই আবক্ষমূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন ঘাটাল মহকুমা আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজ ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে জানান, বাঙালির মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নবাগত মুখ্যমন্ত্রী গত ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে সরকারের সমস্ত কাজকর্ম বাংলা ভাষায় পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা করেছেন। জন্মজয়ন্তী পালনের পাশাপাশি এদিন প্রগতিশীল ও সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছিল। চন্দ্রকোণা শহরের ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী কৃতী ছাত্রছাত্রীদের এদিন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সমাজে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইনি সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানার রামগড় গ্রাম থেকে আগত এক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের হাতে তাঁর ছেলে ও মেয়ের জন্য বস্ত্র তুলে দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক সুন্দর নজির গড়ে স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সঙ্ঘ।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।