কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: বাংলা গদ্যের জনক এবং ‘বর্ণপরিচয়’-এর স্রষ্টা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামে ফের বাংলা ভাষার অমর্যাদার ছবি ফুটে উঠল। রাজ্য যুবকল্যাণ দপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বিদ্যাসাগর মেলা ২০২৬’-এ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের যে শংসাপত্র ও স্মারক প্রদান করা হয়েছে, সেখানে ‘সংবর্ধনা’ বানানটি লেখা হয়েছে ‘সম্বর্দ্ধনা’ এবং ‘সম্বোর্ধনা’। বিদ্যাসাগরের নিজের জন্ম ভিটের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলা বানানের এমন কঙ্কালসার দশা দেখে স্তম্ভিত জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাবন্ধিক উমাশঙ্কর নিয়োগী বলেন, ‘যে মানুষটি সারা জীবন বাংলা ভাষার শুদ্ধিকরণ নিয়ে লড়াই করলেন, তাঁরই স্মৃতিবিজড়িত অনুষ্ঠানে এই ধরনের ভুল ক্ষমার অযোগ্য। প্রশাসনের উচিত ছিল আরও অনেক বেশি যত্নশীল হওয়া।’ এর আগে বীরসিংহ গ্রামেই সরকারি অর্থানুকূল্যে নির্মিত একটি তোরণে ‘বর্ণপরিচয়’ বানানটি ভুল লিখে ‘বর্নপরিচয়’ করা হয়েছিল। বারবার একই ধরনের পুনরাবৃত্তি প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং ভাষার প্রতি সম্মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।
বিদ্যাসাগর অনুরাগী ও ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের বানান ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যে মনীষী বাঙালির হাতে বর্ণমালার খড়ি দিয়েছিলেন, তাঁর নামাঙ্কিত মেলায় এমন উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষা নিয়ে এই ধরনের বালখিল্য আচরণ কেবল অপমানজনকই নয়, বরং তা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। কেন বারেবারে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতেই তাঁকে এমন অসম্মানের মুখে পড়তে হচ্ছে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথা শিক্ষক বিকাশ কর বলেন, ‘ভুলটা ভুল-ই, এনিয়ে কোনও সাফাই দিতে চাইছি না। আসলে সমস্ত প্রুফ আমরা দেখি না। আমরা নিজেরা প্রুফ দেখলে এই ভুলটা থাকত না।’








