এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

ঘাটালে কি এবার ত্রিমুখী লড়াই?:

Published on: March 16, 2026 । 8:25 PM

কুণাল সিংহরায়, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ঘাটালে কি এবার ত্রিমুখী লড়াই?: বাম তালিকা প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য। 231 ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআই এম প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক শান্তিনাথ সাতিকের নাম।২০১১ সালে শান্তিনাথ বাবুই ছিলেন অনেকেরই প্রথম পছন্দ কিন্তু ঘাটালের পাঁচবারের বিধায়ক রতন পাখিরা অসুস্থ হলেও তাঁরই স্ত্রী ছবি পাখিরাকেই প্রার্থী করা হয়।সিপিএমের প্রবীন কর্মীরা অনেকেই এখনো নিজেদের আলাপচারিতায় আক্ষেপ করেন যদি ঘাটাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি,ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক একনিষ্ঠ বামকর্মী ও সমর্থক শান্তিকে প্রার্থী করা হত, হয়তো পরিবর্তনের ঢেউএও হাতছাড়া হতনা বামঘাঁটি ঘাটাল।২০২৬ এ সেই শান্তিনাথের উপরই ভরসা করতে হল বাম নেতৃত্বকে।ইতিমধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জলই গড়িয়েছে, শান্তিবাবু কি পারবেন বিজেপির ঝুলিতে চলে যাওয়া বাম ভোট ফিরিয়ে আনতে? উত্তর সহজ নয় কারণ বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এবং প্রতি বুথে বুথে জনসংযোগ, তরুন লড়াকু নেতৃত্ব বিজেপিকে অনেক অনেক এগিয়ে দিয়েছে। প্রায় চূড়ান্ত গতবারের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাটের নাম।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী শীতলবাবু রাজ্যনেতৃত্বের অনেকের সাথেই সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু শীতলবাবুর কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্য শান্তিনাথ বাবু দাঁড়ানোয়।জন্মসুত্রে ঘাটালের ১,২,৩,৪ পঞ্চায়েত এলাকায় শান্তিবাবুর ব্যাপক পরিচিতি এবং কার্য্যসুত্রে ৫ নং এলাকায় অনেকের প্রিয় শান্তিনাথ বাবু। আবার এই এলাকাগুলি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। একসময় শান্তিনাথবাবু সুনামের সাথে মনসুকা-দীর্ঘগ্রাম সমবায় সমিতির সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন । এই সময় চাষীদের ব্যাপক পরিমান ঋণমঞ্জুর এবং আদায় এই সমিতিকে প্রচারের আলোয় এনেছিল।পরে তিনি ঘাটালে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও এলাকার সাথে সুসম্পর্ক অটুট। নিসন্দেহে বলা যেতে পারে সারা বাংলায় তৃণমূল- বিজেপির দ্বিমুখী লরাই হলেও ঘাটালে বিজেপির ভোট কাটছেন শান্তিনাথ বাবু।এক্ষেত্রে পোয়া বারো তৃণমূলের ২০১১ ও ২০১৬ দু’বারের বিজয়ী প্রার্থী শংকর দোলই এর।ঘাটালের তৃণমূল রাজনীতিতে প্রায় একঘরে করে দেওয়া একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শংকর দোলই যদি কেশপুরে না দাঁড়িয়ে এখানে দাঁড়ানোর সুযোগ পান তাহলে হারানো আসন তৃণমূল ফিরে পেলেও পেতে পারে।মনে রাখতে হবে শংকর বাবুর অনেক সমর্থক ঘাটালের ৫,৬,৭,৮,৯,১০ এবং দাসপুরের রাজনগর এলাকায় আছেন।দলীয় সমর্থন না পেলেও তিনি এখনো গুটিকয়েক সমর্থককে সঙ্গী করে নিয়মিত জনসংযোগ এর কাজ চালিয়ে গেছেন।না শংকরবাবু ছাড়া ঘাটাল পুনুরুদ্ধার করা অসম্ভব। অসম্ভব জেদী শংকরবাবু করে দেখাতেও প্রস্তুত। তাই বলা যেতেই পারে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাটাল আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

কুণাল সিংহরায়

সাংবাদিক, ‘স্থানীয় সংবাদ’ • মো: 91535 54409