রবীন্দ্র কর্মকার, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: যুক্তির ধার, বক্তব্যের দৃঢ়তা এবং নগরশাসন সম্পর্কে গভীর আগ্রহকে সঙ্গী করে জাতীয় মঞ্চে ফের পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন স্কটিশ চার্চ কলেজের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অনল চক্রবর্তী। অনলের বাড়ি ঘাটাল মহকুমার লছিপুর গ্রামে। অনলের বাবা সোমেশ চক্রবর্তী ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আগামী ২৩ থেকে ২৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রজাতন্ত্র ন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভেল ২০২৬ এর পলিসি ডিবেট কম্পিটিশন এর জাতীয় চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে জাতীয় চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করতে যাচ্ছেন অনল।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় যুব উৎসব হল ‘প্রজাতন্ত্র ২০২৬’। প্রজা ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ আরবান অ্যাফেয়ার্স এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাট ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে তিন হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন। নগরশাসন ও জননীতিকে কেন্দ্র করে একাধিক কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পর্ব অতিক্রম করে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছেন অনল।
এবারের প্রতিযোগিতার মূল ভাবনা ‘ভবিষ্যতের আবাসন: সকলের জন্য নগর নির্মাণ’। প্রচলিত বিতর্কের বাইরে এই প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব হল, অংশগ্রহণকারীদের নগর সরকারের আইনসভা বা পৌর নিগমের সাধারণ সভার সদস্যের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নির্দিষ্ট আবাসন ও নগরনীতি সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে অথবা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়। পাশাপাশি রয়েছে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে প্রতিপক্ষের যুক্তির মোকাবিলা করতে হয়। এর মাধ্যমে তরুণদের নীতিবিশ্লেষণ, সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য এবং নগরশাসনের বাস্তব কাঠামো সম্পর্কে ধারণা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
জাতীয় পর্বের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের ফিল্ড এনগেজমেন্ট ও নগর প্রশাসনভিত্তিক গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। কলকাতায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নগরশাসনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন অনল। আবাসন, পাড়াভিত্তিক উন্নয়ন, পৌর পরিষেবা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং নীতির বাস্তবায়ন তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অনলের কাছে এই সাফল্য অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত মেয়রস্ স্পিচ প্রতিযোগিতায় জাতীয় চূড়ান্ত পর্বেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। পরপর দুটি সংস্করণে জাতীয় স্তরে পৌঁছে অনল বলেন, “বিতর্ক প্রথমে আমার কাছে ছিল নিছক আকর্ষণ, সেই আকর্ষণ ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে, আর আজ তা একপ্রকার নেশা। মঞ্চে শব্দ পায় শাণ, যুক্তি পায় ধার, আর ভাবনা পায় নিজের সঙ্গে নিজেরই এক নতুন লড়াইয়ের সুযোগ।”
এবার বেঙ্গালুরুর জাতীয় মঞ্চে যুক্তি, গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে নিজের সেরাটা তুলে ধরার প্রত্যয়ে প্রস্তুত অনল।





