কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: স্বামীর পাথুরে শরীরের ওপর হাত রাখতেই যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল দুলালী আদকের জরাজীর্ণ শরীরে। ওই তো চশমার আড়ালে সেই চেনা শান্ত চোখ, ওই তো সেই চেনা আদল। ঘাটাল শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুদাস উচ্চবিদ্যালয়ের চত্বরে আজ যেন সশরীরে ফিরে এলেন বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আনন্দময় আদক। স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৭০সালে। স্কুল প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন ৯নম্বর ওয়ার্ডের গুরুদাস নগরের আনন্দময় আদক। ১৯৭০ সালের সেই দিনগুলো থেকে আজ ২০২৬-এর এই ১২ ফেব্রুয়ারি— দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াইয়ের ইতিহাস আজ এক লহমায় মূর্ত হয়ে উঠল তাঁর আবক্ষ মর্মর মূর্তিতে। কিন্তু সব আনুষ্ঠানিকতাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠল এক বৃদ্ধা স্ত্রীর বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে আসা অব্যক্ত যন্ত্রণা আর গর্বের দীর্ঘশ্বাস। মূর্তির আবরণ উন্মোচন করতে গিয়ে বারবার হাত কাঁপছিল দুলালীদেবীর। সাদা কাপড়ের আড়াল থেকে যখন স্বামীর শ্বেতশুভ্র মুখটি বেরিয়ে এল, বৃদ্ধা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। যে মানুষটার সঙ্গে জীবনের চড়াই-উতরাই পার করেছেন, যাঁর হাত ধরে এই স্কুলের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল, আজ সেই মানুষটাই স্কুলের আঙিনায় মনীষীদের সারিতে ঠাঁই পেয়েছেন। দুলালীদেবী ভাবতেও পারেননি, বিদ্যাসাগর কিম্বা বিবেকানন্দের মতো প্রাতঃস্মরণীয়দের পাশে আজ থেকে তাঁর স্বামীর মূর্তিও শোভা পাবে। আর সেই মূর্তির আবরণ উন্মোচন করবেন তিনি নিজে। এই পরম প্রাপ্তি আর বিচ্ছেদের হাহাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। উপস্থিত শিক্ষক থেকে ছাত্র— প্রত্যেকের চোখ তখন অজান্তেই ভিজে উঠেছে।
মূর্তি প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র আদক বলেন, বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করবে। আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অলিম্পিয়ান তথা ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ভগীরথ সামুই সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।







