এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

ডি.জে. সাউন্ড: বিনোদন না শব্দদূষণ? চাই সচেতনতা

Published on: July 31, 2026 । 12:08 PM

রাজীব মহাপাত্র, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: মানুষের জীবনে ডি.জে. সাউন্ডের খারাপ প্রভাব ক্রমবর্ধমান। যা যন্ত্রণাদায়ক। বর্তমান সময়ে বিয়ে, উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ডি.জে. (DJ) সাউন্ডের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডি.জে. সাউন্ড বলতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে অত্যন্ত জোরে সঙ্গীত বা শব্দ প্রচারকে বোঝায়। বিনোদনের একটি মাধ্যম হলেও নিয়ন্ত্রণহীন ও অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্য, সমাজ এবং পরিবেশের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রথমত, ডি.জে. সাউন্ড মানুষের শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কানে অবিরাম শব্দ শোনা (Tinnitus) বা স্থায়ী বধিরতাও দেখা দিতে পারে। •দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। উচ্চ শব্দ উদ্বেগ, বিরক্তি, মানসিক চাপ ও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা এর ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। •তৃতীয়ত, ডি.জে. সাউন্ড হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন শব্দদূষণের মধ্যে বসবাস করলে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, রক্তচাপের তারতম্য এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। •চতুর্থত, এটি সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করে। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ, অসন্তোষ এবং সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়।•পঞ্চমত, ডি.জে. সাউন্ড পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত শব্দ পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণে ব্যাঘাত ঘটায়। তাদের খাদ্য সংগ্রহ, প্রজনন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরে শব্দদূষণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাই বিনোদনের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। আজকের সমাজ ব্যবস্থাতে আমাদের সবারই এবিষয়ে জানা ও মানুষকে সচেতন করার জন্য এগিয়ে আসা দরকার। পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনেরও সদর্থক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন নাগরিক স্বার্থে ।

ডি.জে. সাউন্ড আনন্দ ও উৎসবের আবহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ও অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আইন মেনে, নির্দিষ্ট সময় ও শব্দমাত্রার মধ্যে  সাউন্ড ব্যবহার করা উচিত। প্রকৃত আনন্দ তখনই অর্থবহ, যখন তা অন্যের শান্তি ও সুস্থতাকে নষ্ট না করে।

রবীন্দ্র কর্মকার

ঘাটাল মহকুমার যে কোনও ঘটনা ও তথ্য জানা থাকলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করুন। মো: 9933998177