নিজস্ব সংবাদদাতা, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমাকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার দাবিতে আবারও পথে নামলেন এলাকার মানুষ। বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশনের চন্দ্রকোণা শাখা কমিটির উদ্যোগে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর দাবিতে এক বিশাল বাইক র্যালি ও পথসভার আয়োজন করা হয়। ক্ষীরপাই পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি চন্দ্রকোনা টাউন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। এই কর্মসূচিতে প্রায় ১০০টি বাইক এবং দুই শতাধিক বেশি ঘাটাল মহকুমাবাসীর অংশগ্রহণে রেলপথের দাবিতে সরব হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশন ঘাটাল মহকুমার রেল যোগাযোগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল, আরামবাগ থেকে ইরপালা এবং ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা—এই রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে চলেছে মিশন। মিশনের বক্তব্য, ঘাটাল মহকুমার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির জন্য রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে রেলপথের দাবি উঠলেও ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়টি এখনও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
উল্লেখ্য, বীরসিংহে এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাঁশকুড়া–ঘাটাল–ইড়পালা রেল প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে জমিজট কাটিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা বা উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিশন। এদিনের পথসভায় বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশনের পক্ষে ড. প্রসেনজিৎ কাপাস বলেন, “আমাদের দাবি, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের রেল বাজেটে পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল, আরামবাগ থেকে ইড়পালা এবং ইড়পালা থেকে ঘাটাল পর্যন্ত রেল প্রকল্পগুলির কাজ শুরু করার বিষয়ে মাননীয় রেলমন্ত্রীকে স্পষ্ট ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি, ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা পর্যন্ত নতুন রেল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। রেল দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটেও ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা রেলপথের উল্লেখ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ঘাটাল–চন্দ্রকোণা রেল যোগাযোগের দাবিকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে নয়, বরং সমগ্র ঘাটাল মহকুমার মানুষের ন্যায্য দাবি হিসেবে দেখা উচিত। এই আন্দোলনের লক্ষ্য হল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিদ্যাসাগর রেলপথ মিশনের চন্দ্রকোণা শাখা কমিটির এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল—ঘাটাল মহকুমাকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার দাবি থেকে আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসবেন না। ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোণা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু করা এবং প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের জন্য আগামী দিনেও তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।








