• কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ১৮৬৯ সালে ঘাটাল পৌরসভার পথচলা শুরু। এত বছর ধরে ঘাটাল শহর অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে। ১৯৬৯ সালে পৌরসভার শতবর্ষ উদ্যাপনের সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান অজিত সাঁতরার উদ্যোগে বসন্তকুমারী স্কুলের সামনে, ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের ধারে পৌরসভার একটি পুকুরকে সুইমিং পুল হিসেবে তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন শহরের মানুষও আশা করেছিল, এবার হয়তো ঘাটালে একটি ভালো সুইমিং পুল তৈরি হবে।
কিন্তু সেই উদ্যোগ আর শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলেও সুইমিং পুলের জন্য যে পরিকাঠামো দরকার, তা তৈরি হয়নি। নির্দিষ্ট মাপ ও গভীরতা, সাঁতারের লেন, জল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা, ফিল্টার ও ক্লোরিনেশনের ব্যবস্থা, নিয়মিত জল পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড, ড্রেসিং রুম, শৌচাগার এবং নিরাপত্তার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলোও ছিল না। ফলে সেটি সুইমিং পুল না হয়ে একটি সাধারণ পুকুর হিসেবেই পড়ে থাকে।
এখন সেই পুরোনো জায়গাটিও অরক্ষিত এবং ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই।
ঘাটাল এমনিতেই বন্যাপ্রবণ এলাকা। বর্ষার সময় নদীর জল বাড়লে অনেক জায়গা জলের তলায় চলে যায়। তাই এই এলাকায় সাঁতার শেখা শুধু খেলাধুলোর জন্য নয়, প্রয়োজনের সময় জীবন বাঁচানোর জন্যও খুব জরুরি। ছোট থেকেই যদি ছেলেমেয়েরা নিরাপদ জায়গায় সাঁতার শেখে, তাহলে জলে বিপদের সময় তারা অনেকটাই সামলে নিতে পারবে। কিন্তু ঘাটালের বেশিরভাগ পুকুরে সেইভাবে সাঁতার শেখার ব্যবস্থা নেই এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও থাকে না। এছাড়া বেশির ভাগ পুকুর ব্যবহারে অযোগ্য। ফলে অনেক শিশুই ইচ্ছে থাকলেও ভালোভাবে সাঁতার শেখার সুযোগ পায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা ঘাটাল আদালতের বরিষ্ঠ আইনজীবী দেবপ্রসাদ পাঠক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,পৌরসভার আগের উদ্যোগে পরিকল্পনার অভাব ছিল। পরিকাঠামো ছাড়া কেবল নামমাত্র ঘোষণা করে কোনও প্রকল্প সফল হয় না। কথাটা একেবারেই ঠিক। শুধু সুইমিং পুল করার কথা বললেই হবে না, সেটাকে ঠিকভাবে তৈরি করতে হবে এবং নিয়মিত দেখভালও করতে হবে।
বর্তমান পৌর চেয়ারম্যান তুহিন কান্তি বেরা জানিয়েছেন, বসন্তু কুমারী স্কুলের সামনে নয়। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সুইমিং পুল করার জন্য আমাদের জায়গা রয়েছে। অর্থের সমস্যার জন্য আমরা তা শুরু করতে পারিনি।
একটি ভালো সুইমিং পুল হলে শুধু ছোটরা নয়, বড়রাও উপকৃত হবেন। নিয়মিত সাঁতার শরীর ভালো রাখে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ঘাটাল থেকেও ভবিষ্যতে ভালো সাঁতারু উঠে আসতে পারে। মেয়েরাও নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার শেখার সুযোগ পাবে।
সবচেয়ে বড় কথা, ঘাটালের মতো বন্যাপ্রবণ এলাকায় সাঁতার শেখাকে শুধু খেলাধুলো হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি বন্যার সময় জীবন বাঁচানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এত বছর আগে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায়নি। এবার সেই অসম্পূর্ণ কাজটিই নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে।
ঘাটালের মানুষ তাই এবার শুধু প্রতিশ্রুতি চান না, তাঁরা বাস্তবে একটি আধুনিক সুইমিং পুল দেখতে চান। বিধায়ক শীতল কপাট জানিয়েছেন, সুইমিং পুলের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এনিয়ে রাজ্যস্তরেও কথা বলছি। বিধায়কের এই কথায় স্বাভাবিকভাবেই আশায় বুক বাঁধছেন ঘাটালের মানুষ। এতদিনের অপেক্ষার পর এবার যদি সত্যিই একটি ভালো, আধুনিক সুইমিং পুল তৈরি হয়, তাহলে সেটি ঘাটালের মানুষের জন্য খুবই ভালো একটি উদ্যোগ হবে। এবার তাই দেখার, কথাটা কবে কাজে পরিণত হয়।