নিজস্ব সংবাদদাতা:চোর-ডাকাত ধরে জেলে পোরা বা বেআইনি অস্ত্র, চোরাই গাড়ি আটক করা পুলিশের কাছে নিতান্তই রোজনামচা। কিন্তু ন-নটি জ্যান্ত গোরু আটক করে যে এমন মহা ফাঁপরে পড়তে হবে, তা বোধহয় দাসপুর থানার পুলিশ স্বপ্নেও ভাবেনি। সোমবার রাতে সবজির ক্রেটের তলা থেকে উদ্ধার হওয়া এই গোরুগুলিই ছিল থানার ‘ভিআইপি অতিথি’। তাদের আদর-যত্নে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, তার জন্য রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে গোটা থানাকে। বুধবার এক সংস্থাকে গোরুগুলি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার পর মেঘ মুক্ত হল গোটা থানা। ওই থানার এক এসআই তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানিয়েই দিলেন, সারা চাকরি জীবনে কত কী আটক করেছেন, কিন্তু এমন বিপদে কখনও পড়েননি! সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত কী যে ঝামেলা গেল বোঝানো যাবে না। বুধবার একটি সংস্থাকে গোরুগুলি তুলে দেওয়া হয়।
থানার পাশেই পুলিশের মিটিং শেডের নীচে অস্থায়ী গোয়াল তৈরি হয়েছিল। নাম-গোত্রহীন এই নিষ্পাপ অতিথিদের সেবায় বহাল করা হয়েছিল তিন জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে। তাঁদের ডিউটিই ছিল একটাই—ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিয়ম করে গোরুদের খড়, ঘাস আর জল দেওয়া। আর অবশ্যই গোবর পরিষ্কার করে শয্যা পরিপাটি রাখা। পুলিশকে এমন গোসেবায় নামতে বাধ্য করেছে দেশের আইন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯১ ধারা অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি অবহেলামূলক আচরণের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিচারাধীন এই গোরুগুলির একটিও যদি অযত্নে মারা যায়, তবে আদালত খোদ পুলিশেরই কলার ধরবে। তাই আইনের গেরোয় পড়ে লাঠি ছেড়ে দুদিন ধরে গোবর ঘাঁটেছেন উর্দিধারীরা।
এই মহা ফ্যাসাদের সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে। দাসপুর থানার কল্মীজোড় এলাকা দিয়ে একটি মালবাহী ট্রাক যাওয়ার সময় টহলরত পুলিশের সন্দেহ হয়। ট্রাকের ডালায় সুন্দর করে সাজানো ছিল সবজির ক্রেট। কিন্তু পুলিশের তাড়া খেয়ে ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তার পীরতলা এলাকায় গাড়িটি ধরা পড়তেই ক্রেটের তলা থেকে বেরিয়ে পড়ে আসল রহস্য! ক্রেট সরাতেই দেখা যায়, নীচে গাদাগাদি করে লুকিয়ে রাখা হয়েছে ন’টি গোরু। পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই এমন অভিনব কায়দায় পাচার চালাচ্ছিল মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা চালক হাঙ্গার খান। আপাতত সে শ্রীঘরে।
গোরুগুলি কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং গন্তব্যই বা কোথায় ছিল, তদন্তের স্বার্থে তা নিয়ে পুলিশ এখনই মুখ খুলতে নারাজ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এর নেপথ্যে বড়সড় পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাণ্ডাদের হদিস পেতে ধৃত চালককে ইতিমধ্যেই তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জেরা করে দুঁদে অফিসাররা যখন মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন থানার বাইরে সিভিক ভলান্টিয়াররা খড়ের আঁটি হাতে গোরুদের মন জোগাতে ব্যস্ত ছিলেন!
সবজির নীচে ন’টি জ্যান্ত গোরু! পাচার রুখে গোসেবায় হিমশিম পুলিশ





