এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

‘ছেলেধরা’ আতঙ্কে রণক্ষেত্র চন্দ্রকোনা. গণপিটুনির হাত থেকে ব্যক্তিকে বাঁচাতে নামল সিআরপিএফ

Published on: March 3, 2026 । 9:07 PM

তনুপ ঘোষ, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: সাতদুপুরে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে চরম উত্তেজনা ছড়াল চন্দ্রকোনার জাড়া গ্রামে। এক অপরিচিত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। গুজব এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, উন্মত্ত জনতাকে সামাল দিতে হিমশিম খায় চন্দ্রকোনা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আসরে নামাতে হয় সিআরপিএফ। আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে। জাড়া গ্রামে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহ মুহূর্তেই ‘ছেলেধরা’ গুজবের রূপ নেয় এবং দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। উন্মত্ত জনতা কোনও কিছু বিচার না করেই ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় গণপ্রহার। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম সিরাজুল আলি, তিনি হুগলির গোঘাটের রামানন্দপুরের বাসিন্দা। উন্মত্ত জনতার রোষ এতটাই তীব্র ছিল যে, পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে ওঠায় এলাকায় মোতায়েন করা হয় সিআরপিএফ।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করে বলা হচ্ছে, কোনওভাবেই ‘ছেলেধরা’র মতো ভিত্তিহীন গুজবে কান দেবেন না। কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে আইন নিজের হাতে না তুলে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিন। তা সত্ত্বেও বারবার এই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে জনমানসের সচেতনতা নিয়ে। গুজবের জেরে জনরোষের এই তাণ্ডব আর কতদিন চলবে, সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে প্রশাসনের।

তনুপ ঘোষ

'স্থানীয় সংবাদ'-এর সাংবাদিক। ক্ষীরপাই শহরে(পশ্চিম মেদিনীপুর) বাড়ি। চন্দ্রকোণা থানা এলাকার যে কোনও খবরের জন্য আমাকে কল করতে পারেন। •মো: 9153931055/9732784129/9732738015 •ইমেল: [email protected]