সৌমেন মিশ্র, স্থানীয় সংবাদ,ঘাটাল:মাত্র ২২ বছর বয়স। ছোট্ট সন্তানকে খাওয়াবেন বলে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলেন সুপ্রিয়া ব্যানার্জী। কে জানত, নিজের বাড়ির চৌকাঠ পেরোনোর আগেই ওত পেতে রয়েছে এমন এক ভয়ংকর বিপদ, যেখান থেকে আর ফেরা হবে না তাঁর!
চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বাঁকা বনমালীপুর গ্রামের বাড়ির সিঁড়ির সামনে ঘাপটি মেরে বসেছিল বিষধর গোখরা। আচমকাই সেই সাপের ছোবল। মুহূর্তে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন সুপ্রিয়া। ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। প্রাণ বাঁচানোর আশায় তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে।
কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যে ঘরে কিছুক্ষণ আগেও ছিল সংসারের ব্যস্ততা, ছোট্ট সন্তানের জন্য খাবার তৈরির প্রস্তুতি—সেই ঘরেই নেমে এল হাহাকার। মায়ের অপেক্ষায় থাকা ছোট্ট শিশুটি হয়তো এখনও জানে না, তার মা আর কোনওদিন তাকে কোলে তুলে নেবেন না…পরে খবর পেয়ে সাপ উদ্ধারকারী রাকেশ হাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ি থেকেই বিষধর সাপটিকে উদ্ধার করেন।মাত্র ২২ বছরের একটি প্রাণ। একটি সংসার। একটি ছোট্ট সন্তান। আর আচমকা সবকিছু শেষ!নিজের বাড়িতেও যে মৃত্যু কখনও কখনও নিঃশব্দে ওত পেতে থাকতে পারে—সুপ্রিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু যেন সেই নির্মম সত্যেরই সাক্ষী।
এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।




