শ্রীকান্ত ভুঁইয়া, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: এক মুহূর্তের অসতর্কতা যে কত বড় মাশুল ডেকে আনতে পারে, দাসপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাই যেন তারই এক করুণ উদাহরণ। ২৯ আগস্ট দুপুরে দাসপুর থানার লক্ষীকূণ্ড বরাডব দন্ডপাট পাড়ায় বছর আড়াইয়ের ছোট্ট ঋদ্ধিক বাড়ির সামনের গলিতে মলত্যাগ করছিল। মলত্যাগ করতে দেখে ঋদ্ধিকের মা জোৎস্না দণ্ডপাট বাড়ির সামনের একটি পুকুরে এঁটো বাসনগুলো ধুতে যান। ওইটুকু সময়ের ব্যবধানেই ছোট্ট ঋদ্ধিক নজর এড়িয়ে বাড়ির পাশের অন্য একটি পুকুরের দিকে চলে যায়। এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মা। শুরু হয় হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। বাড়ির আশপাশের একাধিক পুকুরে শুরু হয় তল্লাশি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে খোঁজাখুঁজির পর একটি পুকুরের জলে নেমে নিজের ছোট্ট সন্তানকে উপরে তুলে আনেন বাবা সুভাষ দণ্ডপাট। কিন্তু ততক্ষণে আনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে নিজের ছোট্ট সন্তানকে হারিয়ে শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। শোকস্তব্ধ বাবা সুভাষ। নাতিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ দাদু মধুসূদন দণ্ডপাট এবং ঠাকুমা মিনা দণ্ডপাট। মাত্র আড়াই বছরের একটি শিশুর এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা গ্রাম এখন শোকস্তব্ধ।
কিন্তু এই ঘটনা শুধু শোকের নয়—এটি আমাদের সকলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে যদি পুকুর, ডোবা, জলাশয় বা খোলা কুয়ো থাকে, তাহলে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এক মুহূর্তের জন্যও নজর সরানো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শিশু কখন যে খেলতে খেলতে জলাশয়ের দিকে চলে যাবে—তা বোঝার আগেই ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ঋদ্ধিকের মর্মান্তিক ঘটনার পর যেন আর কোনও পরিবারের জীবনে এমন শোক না নেমে আসে সেটাই সবার অঙ্গীকার হোক।
একটু অসতর্কতা, মুহূর্তেই হারিয়ে গেল ফুটফুটে ঋদ্ধিক





