এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

পাহাড়ে গিয়ে চন্দ্রকোণার শিক্ষক সচেতনতার পাঠ দিলেন

Published on: October 28, 2026 । 5:29 PM

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল: পেশায় শিক্ষক, নেশা বৃক্ষরোপণ। শুধু ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও মানুষকে শিক্ষা দিতে চান তিনি। সময় পেলেই বেরিয়ে পড়েন সবুজের খোঁজে, কখনও গাছ লাগাতে, কখনও মানুষকে গাছ উপহার দিতে। কিন্তু বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি মানুষের অবহেলা দেখে মন খারাপ হয়ে গেল তাঁর। যে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন, সেই পাহাড়ের বুকেই ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের জলের বোতল, খাবারের প্যাকেট আর নানা আবর্জনা। এই দৃশ্য দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেননি চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ভবানীপ্রসাদ দাস। পেশায় তিনি আরামবাগ হাই স্কুলের বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক। শুশুনিয়া পাহাড়ে গিয়েছিলেন গাছ লাগাতে এবং মানুষকে গাছ উপহার দিতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে বুঝলেন, শুধু নতুন গাছ লাগালেই হবে না, প্রকৃতিকে আবর্জনার হাত থেকেও বাঁচাতে হবে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে নেমে পড়েন পাহাড় পরিষ্কারের কাজে। নিজের হাতে কুড়িয়ে নেন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের প্যাকেট। সেগুলি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয়রাও। একা শুরু করলেও এই উদ্যোগে অন্যদের পাশে পাওয়া তাঁকে আরও উৎসাহিত করে। কারণ, প্রকৃতিকে বাঁচানোর লড়াই একার নয়, সকলের। পাহাড়ের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা প্লাস্টিক শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করে না, পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত করে। পর্যটকেরা আনন্দের মুহূর্ত কাটাতে পাহাড়ে আসেন, কিন্তু তাঁদের ফেলে যাওয়া আবর্জনা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির ক্ষতি করে চলে। এই অসচেতনতা বন্ধ না হলে পাহাড়ের সৌন্দর্য একদিন হারিয়ে যেতে পারে। তাই বেড়াতে আসা মানুষদের দায়িত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দিতে চান ভবানীবাবু। ভবানীপ্রসাদ বাবুর কথায়, প্রকৃতিকে আমরাই নোংরা করি, আবার সেই প্রকৃতিকে বাঁচানোর দায়িত্বও আমাদের। বেড়াতে এসে যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলবেন না। একটু সচেতন হলেই এই সুন্দর জায়গাগুলিকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব। ভবানীবাবুর কাছে বৃক্ষরোপণ শুধু শখ নয়, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। তাঁর মতে, পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর পাশাপাশি চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্যদের সচেতন করাও জরুরি। একটি গাছ যেমন আগামী দিনের জন্য আশার প্রতীক, তেমনই একটি পরিচ্ছন্ন পাহাড় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার। একজন শিক্ষকের হাতে প্লাস্টিক কুড়িয়ে নেওয়ার এই দৃশ্য যেন সমাজের জন্য এক অন্য রকম বার্তা। ভবানীপ্রসাদ বাবু শুশুনিয়া পাহাড়ে শুধু আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেননি, মানুষের মনেও জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা। বেড়াতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করব, কিন্তু প্রকৃতিকে নোংরা করে ফিরব না,এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। পাহাড়, বন ও প্রকৃতি শুধু আমাদের আনন্দের উপকরণ নয়, এগুলি আমাদের মন কে বাঁচিয়ে রাখারও অবলম্বন। প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানে শুধু তার সৌন্দর্য উপভোগ করা নয়, তাকে নিজের মতো করে আগলে রাখাও। কারণ প্রকৃতির আবর্জনা মুক্ত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।