এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

নির্বাচনের খবর করতে হলে সাংবাদিকদের এই নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে

Published on: March 16, 2026 । 8:46 PM
কাজলকান্তি কর্মকার
কাজলকান্তি কর্মকার
প্রতিবেদক রাজ্যস্তরের প্রথম শ্রেণির বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক
📞 +919933066200 WhatsApp

কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল, ১৬ মার্চ ২০২৬: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়েছে। এই সময় সংবাদ পরিবেশন এবং ফিল্ড পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়াতে ও সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নিম্নলিখিত নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
১. ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা
—কোনও সংবাদ বা বিশেষ প্রতিবেদন   নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনে হওয়া চলবে না। প্রতিটি খবরে প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য থাকা বাধ্যতামূলক।
—’বিজেপি সূত্রে খবর’ বা ‘তৃণমূল সূত্রে খবর’ ‘বিজেপি সূত্রে খবর’—এই ধরনের অস্পষ্ট সূত্র ব্যবহার করা যাবে না। তথ্যের স্বপক্ষে   প্রমাণ বা দায়িত্বশীল নেতার নাম উদ্ধৃত করতে হবে।
২. রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সংঘাত
—রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা বাদানুবাদের খবর করার সময় কোনও এক পক্ষকে আক্রমণকারী বা অন্য পক্ষকে আক্রান্ত হিসেবে একতরফাভাবে দেখানো যাবে না। পুলিশের বক্তব্য এবং উভয় রাজনৈতিক দলের জেলা বা রাজ্য নেতৃত্বের বয়ান নিতে হবে।
৩. সরকারি প্রকল্প ও কৃতিত্ব
—আগে থেকে চালু থাকা জনহিতকর প্রকল্পের তথ্য দেওয়া যাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত কোনো প্রকল্প যা সরকারের হয়ে প্রচার করছে, তা খবর হিসেবে করা যাবে না।
—যদি কোনও নেতা বা নেত্রী জনসভায় বা ইস্তাহারে কোনও প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেন, তবে সেটি ‘নেতার বক্তব্য’ বা ‘ইস্তাহার’ হিসেবেই উল্লেখ করতে হবে।
৪. নির্বাচনী সমীক্ষা ও আসন পর্যালোচনা
—আসনভিত্তিক পর্যালোচনায় কোনো দলকে এগিয়ে রাখলে তার বিপরীতে পিছিয়ে থাকা দলের যুক্তি ও প্রধান প্রার্থীর পালটা বক্তব্য সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন মনে না হয় যে সংবাদমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট হাওয়া তৈরি করছে।
৫. বিজ্ঞাপন ও সংবাদের পার্থক্য
—সরকারি খরচে দেওয়া সাফল্যের প্রচারকে ‘নিউজ’ হিসেবে চালানো যাবে না। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর ‘পেইড নিউজ’ (Paid News) বা ছদ্মবেশী বিজ্ঞাপনের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।৬. ভাষার ব্যবহার ও বিশেষণের প্রয়োগ
—কোনও প্রার্থী বা নেতার ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ বা অতিরঞ্জিত বিশেষণ (যেমন: অপ্রতিদ্বন্দ্বী, উন্নয়নের কান্ডারি, জননায়ক) ব্যবহার করা যাবে না। সংবাদ হবে সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক।
৭. প্ররোচনামূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য
—ধর্ম, জাতি বা ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে—এমন কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য  সরাসরি প্রচার করা যাবে না। সাংবাদিকের কাজ পরিস্থিতি বর্ণনা করা, উত্তেজনা ছড়ানো নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি থাকে।
৮. সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত অবস্থান
—প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত সাংবাদিক বা অ-সাংবাদিক কর্মীদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও যেন প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ না করে। নিজের ওয়ালে কোনও বিশেষ দলের প্রচার বা অন্য দলের কুৎসা করা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়।
৯. ছবির সঠিক ব্যবহার
—খবরের সাথে ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রাখা জরুরি। এক দলের বড় ছবি দিলে অন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও সমতুল্য গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
১০. কমিশনের নির্দেশিকা ও সময়সীমা
—ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে ‘এক্সিট পোল’ বা বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
—নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত প্রতিটি সময়সীমা  অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন কোনও সংবাদকর্মী বা সংবাদ প্রতিষ্ঠান যদি নির্ধারিত নিয়মাবলি লঙ্ঘন করেন,  তাঁকে অত্যন্ত কঠিন আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন সরাসরি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ পাঠাতে পারে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে উসকানিমূলক খবর বা ঘৃণা ভাষণ প্রচারের ক্ষেত্রে জরিমানা ও সশ্রম কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। এছাড়া সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া কঠোর হস্তক্ষেপ করতে পারে। বারংবার নিয়ম ভাঙলে বা ‘পেইড নিউজ’ পরিবেশন করলে প্রতিষ্ঠানের সরকারি স্বীকৃতি বা আরএনআই রেজিস্ট্রেশন বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে। আর্থিক দিক থেকেও বড়সড় ধাক্কা আসতে পারে, কারণ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন প্রদান সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি নির্বাচন চলাকালীন ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য দেওয়া বিশেষ মিডিয়া পাস এবং সাংবাদিকের সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও কমিশন তৎক্ষণাৎ কেড়ে নিতে পারে। এক কথায়, একটি অসতর্ক সংবাদ বা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন পুরো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও সাংবাদিকের পেশাগত জীবনকে সংকটে ফেলে দিতে পারে।

 

 

নিউজ ডেস্ক

‘স্থানীয় সংবাদ’ •ঘাটাল •পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১২১২ •ইমেল: [email protected] •হোয়াটসঅ্যাপ: 9933998177/9732738015/9932953367/ 9434243732 আমাদের এই নিউজ পোর্টালটি ছাড়াও ‘স্থানীয় সংবাদ’ নামে একটি সংবাদপত্র, MyGhatal মোবাইল অ্যাপ এবং https://www.youtube.com/SthaniyaSambad ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।