নিজস্ব সংবাদদাতা, ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন এবং বকেয়া উৎসাহ ভাতা প্রদানসহ মোট ৮ দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল ঘাটাল মহকুমা। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন ঘাটাল মহকুমা কমিটির ডাকে আজ মহকুমা শাসকের (এসডিও) দপ্তরে বুধবার এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ও ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে আশাকর্মীদের যে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে, আজকের এই কর্মসূচি ছিল তারই একটি অংশ।এদিন সকাল ১১টা নাগাদ ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গেটে জড়ো হতে শুরু করেন কয়েকশ আশাকর্মী। ১২টা নাগাদ সেখানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন

ইউনিয়নের জেলা কমিটির সদস্য সোনালী ঘোষ। সভা চলাকালীন সরকারি বিভিন্ন নির্দেশিকাকে ‘কালা কানুন’ আখ্যা দিয়ে তা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। মহকুমা নেতৃত্ব রীণা পণ্ডিতের উপস্থিতিতে ওই সার্কুলারে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এরপর প্রায় পাঁচ শতাধিক আশাকর্মীর একটি দীর্ঘ মিছিল শহর পরিক্রমা করে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে পৌঁছায়। মিছিল শেষে এসডিও অফিসের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষ্ণা পাণ্ডা, রীনা পণ্ডিত, সুপ্তা রায়, সরিফা খাতুন এবং সুখতারা দণ্ডপাটের মতো নেতৃত্বরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হল— মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন নিশ্চিত করা, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশাকর্মীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান এবং বছরে অন্তত ২৪টি ছুটির ব্যবস্থা করা।
আন্দোলনের শেষ পর্বে সোনালী ঘোষের নেতৃত্বে অর্চনা মূলা, মায়াবতী দাস ও ঝর্ণা ঘোষকে নিয়ে গঠিত চার জনের একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন। ডেপুটেশন গ্রহণ করার পর মহকুমা প্রশাসন আশাকর্মীদের দাবিদাওয়ার যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সিএমওএইচ (CMOH)-এর কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলবে বলে ইউনিয়ন সূত্রে জানানো হয়েছে।







