তৃপ্তি পাল কর্মকার, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল||All about me ➤ https://linktr.ee/TriptiPaulKarmakar||: দাসপুরের স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হুগলি জেলার গোঘাট থেকে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকার নগদ ও সোনার গয়না নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ছোটবেলা থেকে যাঁরা নিজের মেয়ের মতো করে প্রতিপালন করেছিলেন, সেই পরিবারেরই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ওই দম্পতি সম্পদ নিয়ে চলে গিয়েছেন। অভিযুক্ত গৃহবধূর নাম দিয়া পাল এবং তার স্বামীর নাম সিদ্ধার্থ পাল। দিয়ার শ্বশুরবাড়ি দাসপুর থানার নিশ্চিন্তপুর ঢেউভাঙা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি হুগলির গোঘাট থানার খাটকগ্রামের। অভিযুক্ত দিয়া পাল এবং তাঁর স্বামী সিদ্ধার্থ পালের বিরুদ্ধে গোঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাঁদের সন্ধানে দাসপুর থানার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে গোঘাট থানার পুলিশ। তবে বর্তমানে ওই দম্পতি বাড়িতে নেই বলে জানা গিয়েছে।
খাটক গ্রামের বাসিন্দা বলাই মুখোপাধ্যায় ও কল্পনা মুখোপাধ্যায় নিঃসন্তান। বলাইবাবুর গ্রামেই সার ও কীটনাশকের ব্যবসা রয়েছে। আর দিয়ার বাপের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা গ্রামে। বলাইবাবু বলেন, দিয়ার মা মেচেদায় আমার দিদির বাড়িতে কাজ করতেন। দিয়াদের অভাবের সংসার ছিল। প্রায় দু’দশক আগে অভাবের কারণে চার বছরের দিয়া পালকে নিজের বাড়িতে এনে মেয়ের মতো করে বড় করেন তাঁরা। তাঁর পড়াশোনা, খাবার, পোশাক ও চিকিৎসার দায়িত্বও তাঁরা নেন। বলাইবাবুর কথায়, কলেজে পড়ার সময় দাসপুরের ঢেউভাঙার বাসিন্দা সিদ্ধার্থের সঙ্গে দিয়ার পরিচয় হয়। পরে দু’জনে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। সম্পর্কের টানে কিছু দিন আগে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে দিয়া ফের বলাইবাবুদের বাড়িতে যান।
সেই সময় কল্পনাদেবীর হাত ভেঙে যায়। তাঁর অনুরোধে দিয়া, সিদ্ধার্থ ও তাঁদের সন্তান দু’মাসেরও বেশি সময় ওই বাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগেই বাড়ির সম্পত্তি কোথায় রাখা থাকে এবং চাবি কোথায় থাকে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই জানা তথ্য কাজে লাগিয়ে তাঁরা সম্পদ নিয়ে চলে যান। বলাইবাবুর দাবি, এক দিন সকালে উঠে তাঁরা দেখেন, দিয়া, সিদ্ধার্থ ও তাঁদের সন্তান বাড়িতে নেই। আলমারি থেকে সার কেনার জন্য রাখা প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না উধাও। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মতো করে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে সন্ধান না মেলায় গোঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বলাইবাবুর পরিবারের দাবি, দিয়াকে কখনও পালিতা মেয়ে হিসেবে আলাদা করে দেখা হয়নি। নিজের মেয়ের মতো করেই তাঁকে বড় করেছিলেন তাঁরা। তাই ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাতও পেয়েছেন তাঁরা। দ্রুত দিয়া ও সিদ্ধার্থের সন্ধান এবং চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে পরিবার।

দাসপুরের স্বামী-স্ত্রী হুগলি থেকে ৫৫ লক্ষ টাকার সম্পদ নিয়ে বেপাত্তা






