এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

ঘাটালে বহুতল বিল্ডিঙে বাজার হবে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে

Published on: August 7, 2026 । 9:49 AM

রবীন্দ্র কর্মকার: ‘স্থানীয় সংবাদ’, ঘাটাল: ঘাটালের বহুল চর্চিত প্রগতি সব্জি বাজারটিকে সরিয়ে বিদ্যাসাগর স্কুল মাঠ বা ঘাটাল কলেজ মাঠের মধ্যে যেকোনও একটি খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবর্তে উচ্ছেদ করা ওই ফাঁকা জায়গায় করা হবে তিনতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং। বিল্ডিঙের নিচুতলায় সব্জি ব্যবসার জন্য জায়গা পাবেন পুরনো সব্জি, মাছ, মাংসা ব্যসবায়ীরা। এবং উপরের দুটি তলাকে দোকান ভাড়া ও সরকারি মিটিং সহ অন্যান্য কাজে লাগানো হবে। শহরবাসী ও ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখেই প্রগতি বাজার ও ঘাটালের দুটি খেলার মাঠ পরিদর্শন করে এমনটাই জানালেন ঘাটাল বিধায়ক শীতল কপাট এবং মহকুমা শাসক অনন্য জানা। আগামী দু’মাসের মধ্যে বাজারটিকে যেকোনও একটি মাঠে স্থানান্তরিত করা হবে। আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রগতি বাজারের পুরনো জায়গায় তিনতলা বিল্ডিং তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা পোষণ করেন বিধায়ক। প্রাথমিকভাবে তার জন্য জেলা পরিষদে কথা বলে একটি ফান্ডের ব্যবস্থাও করছেন বলে জানান বিধায়ক। আরও অন্য কোনওভাবে ফান্ড জোগাড় করা যায় কিনা সেবিষয়েও দেখবেন বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে নতুন বিল্ডিং হলে সেখানে একই পরিবারের মাত্র একজনকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েেছ।
প্রসঙ্গত, ঘাটাল শহরের দীর্ঘ কয়েক দশকের পুরনো প্রগতি বাজারটি ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘড়িমোড়ের কাছে চলে আসছে। নদীর পূর্ব পাড়ের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের প্রচুর মানুষ ওই বাজারের উপরেই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। নিত্য কাঁচা আনাজ থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ফল ইত্যাদি ওই বাজার থেকে সহজেই কিনতে পারতেন। পূর্ত ও সড়ক দপ্তরের জায়গা হলেও পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে ওই সরকারি জায়গায় গরিব মানুষদের ব্যবসার জন্য বসিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা তোলা তুলে নিত একটি দালাল চক্র। এমনই অভিযোগ উঠে আসছে। অনেকে আবার একাই অনেকগুলি করে ব্যবসার স্থান দখল করে ব্যবসা করত। ফুটপাতগুলিও জবরদখল করে ব্যবসার জন্য একাধিক দোকান খাটিয়ে বসে পড়েছিলেন অনেকেই। অ্যাম্বুলেন্স ও ভাড়ার গাড়ি সার্ভিস রোডে সারি দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাস্তা জবরদখল রেখেছিলেন বেশ কিছু অসাধু গাড়ি ব্যবসায়ী। পায়ে হেঁটে পথচারী থেকে করে ছোট গাড়িগুলির যাতায়াত করতে খুবই অসুবিধে হত। নিত্য দুর্ঘটনা লেগেই থাকত। সেজন্যই ১৭ জুলাই বুলডোজার দিয়ে ঘাটালের সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড থেকে কুশপাতা- গোবিন্দপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে সরকারি জায়গা দখলদারদের অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করা হয় ঘাটালকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক করার জন্য।
উচ্ছেদের আগে ওই বাজারে প্রায় দু’শো থেকে আড়াই’শ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন। সব্জি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ পাল, চন্দন নন্দী, সেখ সাদেক, স্বর্ণদেবী, রঞ্জন মণ্ডল, মিতা বেরা, মাছ ব্যবসায়ী বাপ্পা মণ্ডল, গৌতম পাত্র, মাংস ব্যবসায়ী সেখ সাদ্দাম, নেপাল মণ্ডল, পঙ্কজ জানা প্রমুখ বলেন, আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই প্রগতি বাজারে ব্যবসা করে বেঁচেবর্তে আছি, সংসার চালাচ্ছি। সুতরাং বাজার বন্ধ করে দিলে আমরা মরে যাব। অন্যদিকে, ঘাটাল শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিজিত পাইন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মীরা সামন্ত সহ বহু মানুষ বলেন, কাঁচা আনাজ, মাছ–মাংস কিনতে আমরা পুরোপুরিই ওই বাজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে রয়েছি। হঠাৎ করে বাজার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় আমাদেরও খুব অসুবিধে হচ্ছে। সুতরাং বাজারের একটা বিকল্প ব্যবস্থা না করলে বহু শহরবাসীকে অসুবিধের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ওই সমস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে শীতলবাবু আশ্বাস দিয়েছেন যারা পুরনো ব্যবসায়ী তাদের জন্য আগামী দু’মাসের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে ব্যবসার ব্যবস্থা করার।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।