কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ আয়োজিত আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় জেলা স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করে রাজ্যে অংশগ্রহণ করতে চলেছে দাসপুরের ছাত্রী মধুমিতা ভুঁইয়া। দাসপুর-১ ব্লকের ধান্যখাল এলাকার বাসিন্দা মধুমিতা স্থানীয় ধান্যখাল স্বামী সত্যানন্দ বিদ্যামন্দিরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তার এই সাফল্যে স্বভাবতই খুশির হাওয়া পরিবার থেকে শুরু করে সমগ্র বিদ্যালয় তথা এলাকায়। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে গত ২৯ আগস্ট পাঁচবেড়িয়া স্কুলে ব্লক স্তরের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ‘গ’ বিভাগে অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করে মধুমিতা। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর নির্মল হৃদয় আশ্রম তথা চার্চ স্কুলে জেলা স্তরের প্রতিযোগিতাতেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয়। এবার তার লক্ষ্য রাজ্য স্তর। আগামী ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দীঘায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্য স্তরের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। আপাতত সেই মঞ্চের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তির প্রতি গভীর টান মধুমিতার। প্রথমদিকে নিজের দিদি দেবলীনা ভুঁইয়ার কাছেই তার আবৃত্তিতে হাতেখড়ি। কিন্তু দিদি কর্মসূত্রে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের সিসিটি বিভাগে কর্মরত থাকায় তাঁর কাছে নিয়মিত তালিম নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে গত প্রায় চার বছর ধরে সরবেড়িয়ার বাসিন্দা তথা আবৃত্তি শিক্ষক সুব্রত কাপাসের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে।
পেশায় কৃষক বংশী ভুঁইয়া এবং গৃহবধূ রূপালী ভুঁইয়ার কন্যা মধুমিতা। সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে হয়েও তার এই সাংস্কৃতিক উত্থানে গর্বিত গোটা পরিবার। বাবা, মা, দিদি থেকে শুরু করে তার আবৃত্তির শিক্ষক— সকলেই চাইছেন মধুমিতা এই শিল্পকলাকে সঙ্গী করে জীবনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে বদ্ধপরিকর মধুমিতা নিজেও। আসন্ন দীঘার প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের বিষয়ে সে অত্যন্ত আশাবাদী।
জেলায় প্রথম হয়ে রাজ্যে যাচ্ছে দাসপুরের মধুমিতা







