এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

বাইরে বৃষ্টি, বাসের ভিতরেও বৃষ্টি! ছাতা মাথায় নিয়েই যাত্রীদের যাত্রা!

Published on: August 17, 2026 । 11:54 AM

সৌমেন মিশ্র, স্থানীয় সংবাদ, ঘাটাল:  বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টির জল ঠেকাতে বাসের ভিতরেই ছাতা খুলে বসতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঘাটাল–পাঁশকুড়া সড়ক ধরে গোয়ালতোড় থেকে হাওড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে এমনই ছবি দেখা গেল, যা প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বাসের ছাদ ফুঁড়ে জল ঢুকছে, আর যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মাথায় ছাতা ধরে বসে আছেন। প্রশ্নটা খুব সাধারণ, যে বাসে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা, সেই বাসের ছাদই যদি আস্ত না থাকে, তাহলে সেটি রাস্তায় নামার অনুমতি পেল কীভাবে?  নিয়ম বলছে, যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বাসকে নিয়মিত পরীক্ষা করিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা এফসি নিতে হয়। বাসের বয়স বাড়লে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই শংসাপত্র নবীকরণও বাধ্যতামূলক। পনেরো বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে বছরে দু’বার ফিটনেস পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। তাহলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, সব নিয়ম মেনেই যদি এই শংসাপত্র দেওয়া হয়, তবে বাসের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির জল ঢোকে কীভাবে? ফিটনেস কি তবে শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? নাকি যাত্রীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় বাসের ছাদটুকু অন্তত খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না কর্তারা? প্রশাসনের ব্যবস্থা বদলানোর দাবি উঠেছে বারবার। কিন্তু সাধারণ মানুষ খুব বেশি কিছু চান না, তাঁরা ভাঙাচোরা বাসের বদলে কেবল নিরাপদ যাতায়াতের অধিকারটুকু চান। কারণ যাত্রী বাসে ওঠেন গন্তব্যে পৌঁছতে, ছাতা নিয়ে বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করতে নয়। এটি শুধু একটি বাসের ছবি নয়, নিয়মের ফিটনেস আর বাস্তবের ফিটনেস কি আদৌ এক, সেই জ্বলন্ত প্রশ্নই তুলে দিয়ে গেল।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।