এই মুহূর্তেক্রীড়া/অনুষ্ঠানঅন্যান্যসাহিত্যসম্পাদকীয়নোটিশবোর্ড

E-Paper

থানার বড় বাবুকে সংবর্ধনার ধুম কেন?

Published on: October 5, 2026 । 10:57 PM

অনিন্দ্য গোস্বামী(চন্দ্রকোণা), স্থানীয় সংবাদ: ইদানিং ঘাটাল মহকুমার তিনটি থানার  নতুন অফিসার আসলেই লাইন লেগে যাচ্ছে সংবর্ধনা দেওয়ার। আপনি যদি রাজনৈতিক দলের পরিচালক হন তবে না হয় থানার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার তাগিদে গেলেন মানা যায়। এখন দেখছি সবাই ছোট বড় শাখা প্রশাখা দল তৈরি করে যাচ্ছে ফুল বেল পাতা দিয়ে আসছে। এটা ভয় না ভক্তি?থানা সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে রাজা অর্থাৎ শাসকের লেঠেল, যাদের নৈতিকতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভুভক্তি বেশি।  এটা পৃথিবীর প্রায় দেশেই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। সবাই জানে পুলিশকে নেতাদের সেলাম ঠুকতে হয়, আবার নেতাকে পুলিশকে দিয়ে অনেক কাজ করাতে হয়। আর যাইহোক পুলিশকে ফুলের তোড়া দিয়ে ভাববেন না পুলিশ আপনাকে ফুলের সুবাস দেবে। যদি আপনি বেআইনি কাজ করেন আর সেটা কোনও ভাবে প্রকাশ হয়ে যায়, যেখানে পাবলিকের ক্ষোভ বিক্ষোভ হতে পারে সেখানে পুলিশ ছেড়ে কথা বলবে না।  তা যত বড়ই ফুলের তোড়া দেন না কেন। তাহলে কারা আসে ফুল দিতে? আসলে সোশাল মিডিয়ায় যদি ভেসে থাকা যায়, যদি মুখ দেখানোর একটা সুযোগ পাওয়া যায় তবে চুনো পুঁটি হবু নেতারা ওসিকে ফুল দিতে চলে আসে। যেন কি একটা মহান কাজ করে ফেলেছে! আসলে আমাদের ঠিক উল্টো কাজ করা উচিত, পুলিশকে চাপ দিয়ে তাদের দায়িত্বের কাজগুলো করে করিয়ে নেওয়া দরকার।  আর পাঁচটা সরকারি কাজের মত এনারাও ফাঁকি মারার চেষ্টায় থাকে।  পুলিশকে যদি কেস দিতে হয় তাহলে তদন্ত করতে হবে, ঠিক করে তথ্য প্রমাণ জোগাড় করতে হবে সে অনেক ঝামেলা। তার চেয়ে একটা ছোট খাটো কেস দিয়ে ছেড়ে দিলেই হয় – দুপক্ষই শান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে। অভিযোগে চুরি লেখা যাবে না, হারিয়ে গেছে লিখতে হবে,  চুরি মানে অপরাধ, তাহলে তদন্ত করতে হবে। এসব মারপ্যাঁচ সাধারণ লোক জানে না, তারা পুলিশের কথা মেনে চলে। পুলিশ যদি সাধারণ মানুষকে সমীহ করে, যদি বুঝতে পারে সাধারণ মানুষ আইন কানুন জানে তবে যেসব ভুলভাল কাজ তারা করে বলে শোনা যায় সেটা কমে যাবে। কিন্তু পুলিশ যদি জানে সাধারণ মানুষ পুলিশকে ভয় পায়, তোষামোদ করতে চায় তবে পুলিশ তার কাজ সহজে করবে না। পুলিশের অফিসার একজন সরকারি অফিসার মাত্র, আর পাঁচটা চাকরিতে যেমন কোনও পদাধিকারী নিয়োগ হন, ছাঁটাই হন বা বদলি হন, এখানেও তাই হবে। যদি সংবর্ধনা দিতে যান তবে কি ওই পুলিশ আগামীতে আপনার বিরুদ্ধে কোনও ভুল পদক্ষেপ নেয় আপনি তার প্রতিবাদ করতে পারবেন? আর এটাও যদি ভাবেন সংবর্ধনা দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেবেন সে গুড়ে বালি। ওপর তলার নির্দেশ, কোর্টের অর্ডার ছাড়া ‘এমনি এমনি’ কিছু হবে না। যদি কিছু পুলিশ অফিসারদের কিছু উপহার দিতেই হয় তাহলে একদম নতুন সংস্করণের  আইনের বই উপহার দিন। প্রথাগত ব্রিটিশ আইনের কবল মুক্ত হয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তার নতুন দিকগুলি পুলিশ আর আপনাদের সবার কাজেই লাগবে।

কেয়া মণ্ডল চৌধুরী

আমার শিকড় ঘাটালে, আর আমার লেখার মূল বিষয় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের জীবনের না-বলা কথাগুলো সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া এলাকার যেকোনো খবর জানাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৮৯০০০২০০০১ নম্বরে।