এই মুহূর্তে ক্রীড়া/অনুষ্ঠান অন্যান্য সাহিত্য সম্পাদকীয় নোটিশবোর্ড

E-Paper

যাচাই করে বিশ্বাস করুন

Published on: August 17, 2026 । 9:50 AM

কাজলকান্তি কর্মকার[সাংবাদিক • M-9933066200]: একটা ঘটনা। কিন্তু দুইটা নিউজ। কোনটা বিশ্বাস করবেন? ধরুন, কোনও শহরের ব্যস্ত রাস্তায় একটা গাড়ি আর একটা টোটোর মধ্যে ছোট্ট একটা সংঘর্ষ হলো। তেমন বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আমরা মিডিয়া এটাকে কয়েকভাবে উপস্থাপন করতে পারি। নিউজটা যদি গাড়ি চালকের ফেভারে করার ইচ্ছে হয়, তাহলে শিরোনাম হবে, ’শহরে বাড়ছে টোটোর দৌরাত্ম্য, আতঙ্কিত গাড়ি চালক ও সাধারণ যাত্রীরা’। কিন্তু নিউজটা যদি টোটো চালকের ফেভারে করার ইচ্ছে হয় তাহলে শিরোনাম হবে, ‘ধনী ব্যক্তির বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন গরিব টোটো চালক!” ঘটনা একটাই, কিন্তু গল্পটা বদলে গেল। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, আপনার রাগ, অনুভূতি, বা মতামত পুরোটাই নির্ভর করছে নিউজের কোন ভার্সনটা আপনি আগে দেখেছেন। বিহেভিয়ারাল ইকোনোমিক্স-এ ড্যানিয়েল কাহনেম্যান (Daniel Kahneman) এবং আমোস টভারস্কি (Amos Tversky) একটি বিষয় ব্যাখ্যা করেছিলেন, দ্য ফ্রেমিং এফেক্ট (The Framing Effect)। অর্থাৎ, একই তথ্য শুধু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেই মানুষের সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। আর এখানেই শুরু হয় ন্যারেটিভ। আমরা ভাবি আমরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করছি। কিন্তু অনেক সময় আমাদের অনুভূতি ডিজাইন করে দেওয়া হয়। কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, কোন ছবিটা দেখানো হবে, কার উপর সহানুভূতি জাগাতে হবে, আর কাকে গালি খাওয়াতে হবে। আমাদের মিডিয়ার এই সিদ্ধান্তগুলোই বদলে দেয় মানুষের পারসেপশন। কিন্তু শুধু আমাদেরই দোষ দিলেই হবে না। কারণ মিডিয়ার মতো আমরা অডিয়েন্সরাও প্রচন্ড রকমের বায়াস। আমরা একই সংবাদের সেই ভার্সনটাই শেয়ার করি যেটা আমাদের বিশ্বাসের সাথে এলাইন করে। যেটা আমাদের চিন্তা ভাবনার সাথে মেলে। একে বলা হয় কনফার্মেশন বায়াস(Confirmation Bias)। আমরা সেটাকেই সবচেয়ে সহজে সত্যি ধরে নিই। তথ্যটা যাচাই না করেই শেয়ার করে দিই। কারণ আমরা আসলে তথ্য না, বরং শেয়ার করি নিজেদের অনুভূতি। যে সংবাদ আমাদের আনন্দিত করে, অথবা যেটা আমাদের ঘৃণাকে জাস্টিফাই বা সমর্থন করে। আর এখানেই আরেকটা ইন্টারেস্টিং জিনিস ঘটে। কিছু সংবাদের উদ্দেশ্য আপনাকে তথ্য দেওয়া না। উদ্দেশ্য, আপনাকে রাগিয়ে দেওয়া। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম একটা জিনিস খুব ভালোবাসে— এনগেজমেন্ট। আপনি যত লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন, সেই পোস্ট তত বেশি মানুষের সামনে যাবে। আর তাই একটা বিষয়কে খারাপ ভাবে উপস্থাপনের প্রায়োরিটিই বেশি থাকে। বিকজ, হেইট স্প্রেডস ফাস্টার। আর এর পেছনের সাইকোলজিটা হচ্ছে নেগেটিভিটি বায়াস(Negativity Bias)। অর্থাৎ আমাদের ব্রেইন স্বাভাবিকভাবেই খারাপ খবর, বিপদ আর বিতর্কিত তথ্যকে ভালো খবরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। সংবাদ মাধ্যমের কথা কোন অমোঘ সত্য না যে আপনি যা দেখবেন, আপনাকে তাই বিশ্বাস করতে হবে। তাদের প্রত্যেকেরই একটা লেন্স আছে। একটা এডিটোরিয়াল অ্যাঙ্গেল আছে। একটা পার্সপেক্টিভ আছে। একই ঘটনা দশটা সংবাদমাধ্যম দশভাবে বলতে পারে। পাঠকদের শুধু দেখতে হবে, খবরটা কারা করছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, আর এই ন্যারেটিভের পেছনে মূল খেলোয়াড় কারা। কিন্তু মিডিয়া এই খেলাটা একা খেলতে পারতো না। তারা শুধু আগুন জ্বালায়। আর সেখানে হাওয়া দেয় কারা? পাঠকরা। রেজ বেইট-এর(Rage Bait) মাধ্যমে প্রতিটা শেয়ার, প্রতিটা হেইটফুল কমেন্ট দিয়ে[Rage bait বলতে এমন পোস্ট, ভিডিও বা বক্তব্যকে বোঝায় যা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে রাগিয়ে, ক্ষুব্ধ করে বা উত্তেজিত করে—যাতে তারা কমেন্ট, শেয়ার, রিপ্লাই বা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ, রাগ উসকে দিয়ে engagement বাড়ানো—মানুষ ভালোবেসে শেয়ার করুক বা রাগ করে কমেন্ট করুক, দুটোই পোস্টের reach বাড়ায়।]। প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে করলেও এটা তাদের এনগেইজমেন্ট বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই করেনা। ইন্টারনেটের যুগে যেখানে সব কিছু সহজ হচ্ছে, সেখানে সত্য সংবাদটা খুজে পাওয়া, দিনদিন ততটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই পরবর্তী সময়ে শুধু ফটো কার্ড দেখেই শেয়ার করার আগে আরো ভিন্ন কয়েকটা সোর্স দেখুন। বামপক্ষ আর ডানপক্ষের সমস্ত ভেরিয়েবল না নিয়ে আপনি কখনোই এই ইকুয়েশন মেলাতে পারবেন না। তাই আগে যাচাই করুন। কারণ যে মানুষ রিঅ্যাক্ট করার আগে যাচাই করতে শেখে তাকে সহজে ম্যানিপুলেট করা যায় না। কারণ মানুষকে কন্ট্রোল করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তার আবেগকে কন্ট্রোল করা।

নিউজ ডেস্ক

‘স্থানীয় সংবাদ’ •ঘাটাল •পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১২১২ •ইমেল: [email protected] •হোয়াটসঅ্যাপ: 9933998177/9732738015/9932953367/ 9434243732 আমাদের এই নিউজ পোর্টালটি ছাড়াও ‘স্থানীয় সংবাদ’ নামে একটি সংবাদপত্র, MyGhatal মোবাইল অ্যাপ এবং https://www.youtube.com/SthaniyaSambad ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে।