সৌমেন মিশ্র,দাসপুর:কালীপুজো মানেই বাহারী আলোয় মাতোয়ারা সারা দেশ। রঙ বে রঙের চোখ ধাঁধাঁনো আলোর বন্যায় গা ভাসাবো আমরা। দৃষ্টিনন্দন আলোর চাকচিক্য দেখে আনন্দিত হব।
চোখের আলো নেই! ওদের কাছে সারা বিশ্ব সারা বছর ধরেই গভীর আঁধারে মগ্ন। তবুও দাসপুরের বৈকুন্ঠপুর নিম্বার্ক মঠের দৃষ্টিহীন  পড়ুয়ারা মাতবে এই আলোক উৎসবে। চোখের দৃষ্টি নয় মনের দৃষ্টিতে তৈরি তাদের প্রদীপ আজ আলোকিত করবে তাদেরই প্রিয় আশ্রমকে। এই আনন্দে সকাল থেকেই ফুরফুরে মেজাজে দৃষ্টিহীন মৃত্যুঞ্জয়, লক্ষ্মণেরা।

মঠের আচার্য ড. সুবাস ত্রিপাঠী জানালেন,কয়েক বছর ধরেই তাঁর ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতেই এই মাটির প্রদীপ বানাচ্ছে। আগে এই কালীপুজোর দিনে ওদের ভীষণ মন খারাপ হত। পরে আচার্যের পরামর্শেই মঠের শিক্ষার্থীদের কাদার ডালা মেখে প্রদীপ তৈরি শেখানো হয়। প্রথম-প্রথম একটু সমস্যা হলেও আজ ওরা যথেষ্ট ভালো প্রদীপ বানায়। ছাত্রছাত্রীদের তৈরি প্রদীপ জ্বালিয়েই এখন মঠে কালী পুজো,দীপাবলি পালন করা হয়।

দৃষ্টিহীন ছাত্র লক্ষণ সামন্ত বলে,কালীপুজোর দিনে আমাদের এখন আর মন খারাপ করে না। আমারা ভীষণ খুশি হই যখন শুনি আমাদের তৈরি প্রদীপে আমাদের গোটা আশ্রম আলোকিত হয়েছে। এ এক অন্য অনুভূতি!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here